রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬
ONP24
ব্রেকিং
'২০২৯ সালের ভোটেই মোদী সরকারের বিদায় নিশ্চিত', ভবিষ্যদ্বাণী ককরোচ প্রধানের জাতিসংঘ মানবাধিকার সংস্থার সঙ্গে গঠনমূলক সম্পৃক্তক্ততা বজায় রাখার অঙ্গীকার বাংলাদেশের কৃষ্ণ সাগরে ড্রোন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজ থেকে মানুষের লাশ উদ্ধার সংসদের কার্য উপদেষ্টা কমিটির পঞ্চম বৈঠক অনুষ্ঠিত বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে গবেষণায় আরও গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান শিক্ষামন্ত্রীর বিবিএসকে নির্ভরযোগ্য ও স্বচ্ছ প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে চায় সরকার : অর্থমন্ত্রী সৌদি আরবের রিয়াদে আর্থিক জেলায় হামলা, ক্ষতিগ্রস্ত আরামকো টাওয়ার সুশৃঙ্খল উন্নয়ন পরিকল্পনায় ক্রিকেটের হারানো ঐতিহ্য ফিরে পেতে চায় সিলেট
অর্থনীতি

মোংলা বন্দরে যুক্ত হচ্ছে বর্জ্য সংগ্রহকারী জলযান

অনলাইন নিউজ পোর্টাল • 09 জানুয়ারী 2021, 10:53 দুপুর • 399 বার পঠিত
মোংলা বন্দরে যুক্ত হচ্ছে বর্জ্য সংগ্রহকারী জলযান

সু-দীর্ঘকাল থেকেই মানুষের জীবন যাত্রা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্পের ওপর সমুদ্রের প্রভাব রয়েছে। পণ্য পরিবহন, স্থানান্তর,মৎস্য ও প্রাকৃতিক সম্পদ আহরণসহ নানা কারণে বিশ্ব বাণিজ্যে সমুদ্রের গুরুত্ব অনেক।

তবে সামুদ্রিক শিল্পের অধিক বিকাশে পরিবেশ ও জলবায়ুর জন্য হুমকি রয়েছে। এ শিল্পের সব থেকে উদ্বেগজনক দিক হচ্ছে জাহাজের বর্জ্যে সমুদ্র দূষণ। তবে এ দূষণ রোধে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সর্বশেষ ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম অর্গানাইজেশনের (আইএমও) উদ্যোগে ১৯৭৪ সালে মারপোল কনভেনশন অনুষ্ঠিত হয়। এ কনভেনশনে সমুদ্র বন্দর গুলির বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা অর্জনকে অত্যন্ত জরুরি হিসেবে উল্লেখ করা হয়।  

১৯৭৭ সালের মেরিন পলিউশন অর্ডিন্যান্সেও জাহাজের বর্জ্য ও নিঃসৃত তেল অপসারণের জন্য অয়েল স্পিল্ড কন্টিনজেন্সি প্লান প্রণয়নের ওপর বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়। মারপোল কনভেনশনে স্বাক্ষরকারী দেশ ও মেরিন পলিউশন অর্ডিন্যান্স হিসেবে বাংলাদেশের প্রত্যেকটি সমুদ্র বন্দরে জাহাজের বর্জ্য ও নিঃসৃত তেল অপসারণের জন্য আধুনিক ব্যবস্থাপনা থাকা দরকার। কিন্তু মোংলা বন্দরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত বাংলাদেশের দ্বিতীয় সমুদ্র বন্দর মোংলায় এ ব্যবস্থা ছিল না। এসব বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে মোংলা বন্দরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে আধুনিক ও যুগোপযোগী করার উদ্যোগ নেয় বন্দর কর্তৃপক্ষ। “মোংলা বন্দরে আধিক বর্জ্য ও নিঃসৃত তেল অপসারণ ব্যবস্থাপনা” শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় বন্দরের বর্জ্য সংগ্রহকারী ও তেল অপসারণকারী জলযান, আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ইকুইপমেন্টসহ অবকাঠামো নির্মাণ শুরু হয়েছে। ২০১৯ সালের ১ জানুয়ারি শুরু হওয়া এ প্রকল্প ২০২২ সালের ৩০ জুন শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

মোংলা বন্দর সূত্রে জানা যায়, “মোংলা বন্দরে আধিক বর্জ্য ও নিঃসৃত তেল অপসারণ ব্যবস্থাপনা” শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় একটি বর্জ্য সংগ্রহকারী জলযান, দু’টি তেল অপসারণকারী জলযান, ওয়েল স্কিমার, বুম ও সংশ্লিষ্ট আনুষঙ্গিক যন্ত্রপাতি কেনা হবে। এ প্রকল্পের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৩০ কোটি টাকা। এ প্রকল্পের আওতায় মুরিং গিয়ারসহ পল্টুন ও ডাম্পবার্জসহ বেশকিছু অবকাঠামোও নির্মাণ করা হবে। এ প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে মোংলা বন্দরে চলাচলকারী বিভিন্ন বাল্ক,কন্টেইনার, ট্যাংকার ও অন্যান্য জলযান থেকে নিঃসৃত তেল ও পেট্রোলিয়াম জাতীয় স্লাজ,ব্লিজ, বর্জ্য, বালাস্ট, পানি ও অন্যান্য আবর্জনা সংগ্রহ করা হবে। এসব বর্জ্য বাছাই করে যেমন বিক্রি করা যাবে, তেমনি সলিড ও অ-রুপান্তরযোগ্য সলিড বর্জ্যগুলো সহজে গার্বেজ করা যাবে। পশুর চ্যানেল ও মোংলা বন্দরের আশপাশের নদ-নদীতে নিঃসৃত তেল অপসারণ সহজ হবে। এর ফলে মোংলা বন্দর এলাকায় সামুদ্রিক দূষণ যেমন কমবে, ঝুঁকি ও দূষণের হাত থেকে বেঁচে যাবে বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবন। এছাড়া বন্দর ও চ্যানেল এলাকার প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষায়ও ভূমিকা রাখবে এ প্রকল্প- এমনটি দাবি করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।

এদিকে দীর্ঘদিন পরে হলেও মোংলা বন্দরের বর্জ্য ও তেল অপসারণের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন সুন্দরবন বিশেষজ্ঞরা।

সেভ দ্যা সুন্দরবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বন্দরে আসা জাহাজের তেল ও বর্জ্যে সমুদ্রে দূষণ হচ্ছিল। এতে সমুদ্রের জলজ প্রাণীর পাশাপাশি সুন্দরবনের গাছ ও প্রাণীরা হুমকিতে পড়েছে। দীর্ঘদিন পরে হলেও মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও জাহাজ নিঃসৃত তেল অপসারণের জন্য যে প্রকল্প হাতে নিয়েছে, তা প্রশংসার দাবিদার। আমরা চাই, দ্রুত এ প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হোক।

খুলনা বিশ্ব বিদ্যালয়ের ফিসারিজ অ্যান্ড মেরিন রিসোর্স টেকনোলজি ডিসিপ্লিলিনের অধ্যাপক ড. এমডি নাজমুল আহসান বলেন, জাতীয় ও আঞ্চলিক অর্থনীতিতে মোংলা বন্দরের গুরুত্ব রয়েছে। নির্মাণাধীন পদ্মা সেতু এ গুরুত্বকে আরও বৃদ্ধি করেছে। অর্থনৈতিক গুরুত্বের সঙ্গে সঙ্গে পরিবেশগত দিকও আমাদের বিবেচনা করতে হবে। সেই দিক বিবেচনা করে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও জাহাজ থেকে নিঃসৃত তেল অপসারণের যে উদ্যোগ নিয়েছে, এটা খুবই ইতিবাচক। একটি বন্দরের আন্তর্জাতিক সুনাম ও রেটিং বৃদ্ধির জন্য বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও জাহাজের নিঃসৃত তেল অপসারণের আধুনিক ব্যবস্থা থাকা খুবই জরুরি। আমরা বিশ্বাস করি, বন্দর কর্তৃপক্ষের এ প্রকল্প আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বন্দরের সুনাম বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে পরিবেশ রক্ষায়ও ভূমিকা রাখবে। এর ফলে সামুদ্রিক জলজ প্রাণী ও জলজ সম্পদ দূষণ থেকে বাঁচবে। পরিবেশও সুরক্ষিত থাকবে।

মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এম শাহজাহান বলেন, বন্দরে আগত জাহাজ থেকে নিঃসৃত তেল ও বর্জ্যের অপসারণের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এ প্রকল্পের আওতায় আমরা বন্দর ও বন্দর সংলগ্ন এলাকা দূষণমুক্ত রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আশা করি, ২০২২ সালের মধ্যে এ প্রকল্পের সব কাজ সম্পন্ন হবে।